ঢাকারবিবার , ১২ জুলাই ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সালথায় খাল পুনঃখনন: ব্যয় শেষে অবশিষ্ট ৭৩ লাখ টাকা ফেরত

সাইফুল ইসলাম মারুফ
জুলাই ১২, ২০২৬ ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরি ব্যয় না করে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা দেশে খুব একটা দেখা যায় না। বরং বিভিন্ন প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়, অনিয়ম কিংবা অপচয়ের অভিযোগই বেশি শোনা যায়। এমন বাস্তবতায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের পর অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

এ উদ্যোগকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় সালথা উপজেলার আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের তিনটি খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। কাজ চলাকালে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের মানে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস ধরে চলা এ প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সকল ব্যয় নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করা হয়। এরপরও অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। উন্নয়ন প্রকল্পে এত বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি এলাকায় ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য বলেন, ইউএনও দবির উদ্দিন নিয়মিত মাঠে উপস্থিত থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করেছেন। কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির সুযোগ না দিয়ে তিনি কাজের মান নিশ্চিত করেছেন। শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য বিলও সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে।

তাদের ভাষ্য, “স্যার অত্যন্ত সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তিনি যোগদানের পর থেকেই সালথায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা ও গতি এসেছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধে তিনি যেভাবে কাজ করছেন, তা আমাদের মুগ্ধ করেছে।”

এ বিষয়ে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। তাই প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যয় করেছি, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় কোনো খাতে অর্থ ব্যয় করিনি। কাজ শেষে যে অর্থ অব্যয়িত ছিল, তা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “উন্নয়নের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে জনগণের আস্থা যেমন বাড়ে, তেমনি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিও আরও শক্তিশালী হয়।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে একদিকে যেমন অপচয় কমে, অন্যদিকে জনসাধারণের করের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। সালথার খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।